ম্যান ইউনাইটেডে ফিরলেন রোনালদো

নানা নাটকীয়তার পর নতুন করে রচিত হল অনবদ্য এক প্রত্যাবর্তনের গল্প! ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ফিরলেন পুরোনো ‘ঘরে’। যেখানে তার শুরু সেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়েই আবার মাঠ মাতাবেন ক্যারিয়ারের শেষের দিকে থাকা সিআরসেভেন।

পর্তুগিজ ফুটবলার রোনালদোর তারকা হয়ে ওঠার শুরু এই ক্লাবটিতেই। ২০০৩ সালে স্পোর্তিং লিসবন ছেড়ে ম্যান ইউনাইটেডে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে রিয়াল মাদ্রিদ-জুভেন্টাস হয়ে আবারও পুরোনো ক্লাব ম্যান ইউনাইটেডে। প্রথমবার ২৯২ ম্যাচে ১১৮ গোল করেছিলেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। ক্লাবটির হয়ে একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ ও তিনটি প্রিমিয়ার লিগসহ ৯টি শিরোপা জিতেছিলেন ফুটবলের এই সুপারস্টার।

জুভেন্টাসের সঙ্গে রোনালদোর দলবদল মূল্য নিয়ে চুক্তি হয়ে গেছে তার পুরোনো ক্লাব ম্যান ইউনাইটেডের। এখন শুধু বাকি স্বাস্থ্যপরীক্ষা আর তার সঙ্গে ম্যান ইউনাইটেডের চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা। তবে কাল পর্যন্ত গুঞ্জন ছিল, ইউনাইটেডেরই নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী ম্যান সিটিতে যাচ্ছেন রোনালদো। আবার এমন খবরও চাউর হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদে ফিরছেন তিনি! তবে সেই তথ্য যে গুজব তা জানাতে নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন সিআরসেভেন।

শুক্রবার জানা গিয়েছিল, জুভেন্টাস ছেড়ে দিতে চান রোনালদো। ৩৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের দলবদলে সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছিল সিটির নাম। রিয়াল মাদ্রিদ ও পিএসজির কথাও এসেছিল। পরে নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে জানালেন জুভেন্টাস ছেড়ে দিয়েছেন। গত বছরের সিরিআ কাপ হাতছাড়া হলেও দলটির হয়ে দুটি সেরি আ ও ইতালিয়ান সুপার কাপ জিতেছেন এই পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। সেগুলোর সঙ্গে ক্লাব ও ক্লাবের সমর্থকদেরও হৃদয়ে রাখার কথা জানিয়েছেন আবেগে আপ্লুত রোনালদো।

‘আজ আমি চমৎকার একটি ক্লাব থেকে বিদায় নিলাম। ইতালির সবচেয়ে বড় আর ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর একটি থেকে বিদায় নিলাম। জুভেন্টাসের জন্য আমি সামর্থ্যের সবটুকু দিয়েছি এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তুরিন শহরটাকে ভালোবাসব। জুভেন্টাস সমর্থকরা সবসময় আমাকে সম্মান করেছে এবং তাদের সম্মানের জবাবে আমি প্রতি ম্যাচে, মৌসুমে ও প্রতিযোগিতায় তাদের জন্য লড়েছি। পরিশেষে, আমরা পেছন ফিরে তাকিয়ে অনুধাবন করতে পারি যে, আমরা অসাধারণ কিছু অর্জন করেছি, যা কিছু চেয়েছিলাম সবটা নয়; তবে সবাই মিলে দারুণ একটি গল্প লিখেছি।’

‘সবসময় আমি আপনাদের একজন হয়ে থাকব। এই ক্লাব এখন আমার ইতিহাসের একটা অধ্যায়, যেমনটা আমি নিজেকে এই দলের একজন মনে করি। ইতালি, জুভেন্টাস, জুভেন্টাসের সমর্থক-সবাই আমার হৃদয়ে থাকবে।’রোনালদোর জুভেন্টাস থেকে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ফেরার ক্ষেত্রে কাজ করেছিলেন ম্যানসিটির কিংবদন্তি কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন ও পর্তুগালের সতীর্থ ব্রুনো ফের্নান্দেস। আর তাতেই বদলে গেল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর গতিপথ।

খবর সারাবেলা / ২৮ আগস্ট ২০২১ / এমএম