বর্ষায় মিশ্র ত্বকের যত্ন
মুখের ত্বকের কিছু অংশ তৈলাক্ত, আবার কিছু অংশ শুষ্ক। এমন ত্বককে বলা হয় মিশ্র ত্বক বা কম্বিনেশন স্কিন। এ ধরনের ত্বকের সমস্যা খুব বেশি। বিশেষ করে বর্ষাকালে। ত্বককে ভালো রাখতে দুই ধরনের যত্নই নেওয়া উচিত। তবে তার আগে জানতে হবে মুখের ত্বকের কোথায় কোথায় ত্বক তৈলাক্ত আর কোথায় শুষ্ক। তাহলে জেনে নিন এমন ত্বকের সমস্যা সমাধানে কী কী করবেন-
মিশ্র ত্বক কেমন
প্রতিটি মানুষ যেমন আলাদা তেমনি মুখের ত্বকের ধরনও আলাদা। কারো ত্বক তৈলাক্ত, কারো শুষ্ক, কারো সেনসিটিভ এবং কেউ কেউ মিশ্র ত্বকের অধিকারী হয়ে থাকেন। মিশ্র ত্বকের বিশেষত্বটা হলো সাধারণত মুখের টি-জোনকে তেলতেলে করে ফেলা। কপাল, নাক ও চিবুকে তেলের আধিক্য দেখা যায়। এর বাইরে বাকি মুখ অর্থাৎ গাল, চোয়াল আর চুলের চারপাশে ফুটে ওঠে শুষ্কতা। মিশ্র ত্বক সাধারণত বংশ পরম্পরা ও হরমোনের কারণে হয়ে থাকে। এ ধরনের ত্বকে মৃত কোষ জমে ত্বক হয়ে ওঠে নির্জীব এবং খসখসে। সেই সঙ্গে থাকে ব্রণ এবং র্যাশের সমস্যা।
মিশ্র ত্বক বুঝবেন যেভাবে
মুখে ভালো কোনো ক্লিনজার দিয়ে ধুয়ে নেওয়ার পর ময়েশ্চারাইজার বা ক্রিম না মেখে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। এই সময়ের পর যদি কপাল ও নাকে তেলতেলে ভাব ফুটে ওঠে এবং বাকি অংশ শুষ্ক দেখায়, তাহলে বুঝতে হবে আপনার ত্বক মিশ্র। ত্বকের বিভিন্ন অংশে ব্লটিং পেপার চেপে ধরলে তৈলাক্ত আর শুষ্কতার বিষয়টি জানা যায়।
মিশ্র ত্বকের যত্ন
ত্বক মিশ্র প্রকৃতির হলে মুখ পরিষ্কার করতে ফেসওয়াশ বা ক্লিনজিং মিল্ক ব্যবহার করতে পারেন। এরপর মুখের তৈলাক্ত অংশগুলোতে কোনো অ্যাস্ট্রিনজেন্ট লোশন লাগাতে পারেন। যদি দিনের বেলায় বাইরে যেতে হয়, তবে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। রাতে মুখ পরিষ্কার করে তুলায় করে টোনার বা গোলাপজল নিয়ে মুখ মুছে নিন। খুব ক্রিমি ময়শ্চারাইজার রাতে এড়িয়ে চলুন। তবে যদি এতে মুখের কোনো অংশ শুষ্ক লাগে, তাহলে ১ চা চামচ গ্লিসারিন, ১০০ মিলি গোলাপজলে মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।
এই মিশ্রণটি চাইলে ফ্রিজেও রেখে দিতে পারেন। যখনই মুখ শুকনো লাগবে, অল্প পরিমাণে ব্যবহার করতে পারেন। ভারী ময়শ্চারাইজার এড়িয়ে চলুন, এতে তৈলাক্ত অংশে অ্যাকনের প্রবণতা দেখা দিতে পারে। বরং সেরাম ব্যবহার করলে উপকার পাবেন। সকালে ও রাতে মুখ পরিষ্কার করে সেরাম লাগান। এতে ময়শ্চারাইজার থাকে না। তাই সহজে ত্বকে শুষে নিতে পারে।
খবর সারাবেলা / ০৫ আগস্ট ২০২১ / এমএম




