করোনায় আরও ৩৩ জনের মৃত্যু
প্রাণঘাতী করোনায় দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৩ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫ হাজার ৬০৫ জনে।একই সময়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন আরও এক হাজার ৩৯৬ জন। ফলে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল তিন লাখ ৬৬ হাজার ৩৮৩ জনে।
আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত করোনাবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মৃত ৩৪ জনের মধ্যে পুরুষ ২৮ জন ও নারী ৫ জন। তাদের সকলেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৯টি পরীক্ষাগারে ১১ হাজার ৫০৯টি নমুনা সংগ্রহ ও ১১ হাজার ১৭৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৭০ হাজার ২৫১টি।গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৫৪৯ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থের সংখ্যা দাঁড়াল দুই লাখ ৭৮ হাজার ৬২৭ জনে।
২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ১২ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ১৮ দশমিক ৬০ শতাংশ। রোগী শনাক্তের তুলনায় সুস্থতার হার ৭৬ দশমিক ০৫ এবং মৃত্যুর হার এক দশমিক ৪৫ শতাংশ।
এ পর্যন্ত করোনায় মোট মৃতের মধ্যে পুরুষ চার হাজার ১০৪ জন (৭৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ) ও নারী এক হাজার ২০১ জন (২২ দশমিক ৬৪ শতাংশ)।বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ২৬ জনের মধ্যে বিশোর্ধ্ব একজন, ত্রিশোর্ধ্ব একজন, চল্লিশোর্ধ্ব একজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব সাতজন এবং ষাটোর্ধ্ব ২৩ জন।
বিভাগ অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ৩৩ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২১ জন, চট্টগ্রামে ৬, রাজশাহীতে ৩, খুলনায় ১, বরিশাল ১ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজন রয়েছেন।এদিকে প্রাণঘাতী করোনায় বিশ্বে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০ লাখ ২১ হাজার ছাড়িয়েছে। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩ কোটি ৪২ লাখ।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর সিস্টেম সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (সিএসএসই) তথ্য অনুযায়ী, আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৪২ লাখ ৬৬২ জনে। মারা গেছে ১০ লাখ ২১ হাজার ৭০৯ জন। সুস্থ হয়েছে ২ কোটি ৩৭ লাখ ৬৯ হাজার ৭২৫ জন।
করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি যুক্তরাষ্ট্রে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৭২ লাখ ৭৭ হাজার ৫৯১ জন। মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ৭৯১ জনের।
যুক্তরাষ্ট্রের পর মৃত্যু বিবেচনায় করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হচ্ছে ব্রাজিল। আক্রান্তের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে থাকলেও মৃত্যু বিবেচনায় দেশটির অবস্থান দ্বিতীয়। লাতিন আমেরিকার দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৪৮ লাখ ৪৭ হাজার ৯২ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৮০ জনের।
আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারত মৃত্যু বিবেচনায় আছে তৃতীয় স্থানে। এ পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৩ লাখ ১২ হাজার ৫৮৪ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ৯৮ হাজার ৬৭৮ জনের।
মৃত্যু বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী মেক্সিকো চতুর্থ স্থানে থাকলেও আক্রান্ত বিবেচনায় দেশটির অবস্থান ৯ নম্বরে। মেক্সিকোতে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৭ লাখ ৭৮ হাজার ৭৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৭৬ হাজার ৪৩০ জনের।
ইউরোপের দেশ যুক্তরাজ্য মৃত্যু বিবেচনায় রয়েছে পঞ্চম স্থানে, তবে আক্রান্তের দিক থেকে দেশটির অবস্থান ১৩তম। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ ৬২ হাজার ৭৭৫ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৪২ হাজার ২৯২ জনের।
গত বছরের ডিসেম্বরে চীন থেকে সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী এ পর্যন্ত ১৮৮টি দেশে ছড়িয়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সংকটকে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
এদিকে প্রাণঘাতী করোনার টিকা এলেই দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরা যাবে এমন নয়। লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটির গবেষকেরা জানিয়েছেন, টিকা নিয়ে আরও বাস্তববাদী হওয়া দরকার।
লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের অধ্যাপক নিলয় শাহ বলেন, করোনার টিকা সহজলভ্য হয়ে গেলে, আগামী মার্চেই স্বাভাবিক জীবন ফিরে আসবে এমন নয়। তাই করোনাভাইরাসে জারি থাকা কড়াকড়ি ধীরে ধীরেই শিথিল করতে হতে পারে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে করোনা সুরক্ষায় বিশ্বজুড়ে ২শ’রও বেশি টিকা তৈরির কাজ চলছে। তবে কেউই চূড়ান্ত নিরাপত্তার পরীক্ষা শেষ করতে পারেনি। সবাই টিকা পরীক্ষার নানা ধাপে থাকায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনও কারও টিকা ব্যবহারের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়নি।
মহামারী অবসানে টিকা আশার আলো জাগালেও সেটি তৈরির ক্ষেত্রে অনেকবার ব্যর্থতা আসতে পারে সেটি সবারই জানা। আর তা সহজলভ্য হতেও লেগে যেতে পারে একবছর।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান প্রক্রিয়া শুরু হলেও সে প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে কয়েক মাস, এমনকী একবছরেরও বেশি সময় লেগে যেতে পারে।
খবর সারাবেলা / ০২ অক্টোবর ২০২০ / এমএম




