ঈদে করোনা সংক্রমণ বাড়বে

করোনার উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ। প্রতিদিন বাড়ছে সংক্রমণের সংখ্যা। এই অবস্থায় সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি না মেনে গাদাগাদি করে দলে দলে বাড়ি ফিরছে মহামারী এ ভাইরাসটির হটস্পট ঢাকা ও তার আশপাশের জেলায় বসবাসরত মানুষেরা।

সরকার বাড়ি ফেরা ঠেকাতে নানা পদক্ষেপের পরও সব সড়কেই নেমেছে ঘরমুখো মানুষের ঢল। যাত্রীদের স্রোত সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশ প্রশাসনকে। রাজধানী থেকে বের হওয়ার সব পথেই পুলিশের কঠোর অবস্থানে থাকার পরও নানা কৌশলে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে বাড়ি ফিরছে তারা। করোনা সংকটময় মুহূর্তে তাদের বাড়ি ফেরায় দেখা নিয়ে নয়া উদ্বেগ।

এ পরিস্থিতিতে করোনার ঝুঁকি অতিমাত্রায় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, করোনার এই উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে গাদাগাদি করে বাড়ি ফেরা দেশের জন্য সর্বনাশ ভয়ে আনতে পারে। যারা বাড়িতে যাচ্ছেন তারাতো নিশ্চিত করে বলতে পারছে না যে করোনায় আক্রান্ত নন। তাদের অনেকের করোনা পজেটিভ থাকতে পারে।

এদের মাধ্যমে তাদের আত্মীয়স্বজন ও গাদাগাদি করে যাওয়ার কারণে নতুন করে অনেকে আক্রান্ত হতে পারে। ফলে সারা দেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে করোনা ভাইরাসটি। যা ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে। এমনকি ঢাকার ভিতরে যেভাবে যানবাহন চলছে তা বন্ধ করা জরুরি।

এদিকে দেশের বিভন্ন জেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যারা এ যাত্রায় বাড়ি যাচ্ছেন তাদের অনেকেই ১৪ দিন হোমকোয়ারেন্টাইনে থাকছেন না। বাড়িতে গিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দিব্বি। তাই তাদের হোমকোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার আহ্বানও জানান স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) মানবকণ্ঠকে বলেন, এক কথায় দেশ এক মারাত্মক বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে বলে আমার মনে হয়। গত দুই দিন থেকে আমরা গণমাধ্যমে দেখছি মানুষ কোনো প্রকার স্বাস্থ্য বিধি না মেনে গাদাগাদি করে বাড়ি যাচ্ছেন অনেকে। এতে সারা দেশের অত্যাচার বাড়বে। কারণ আমরা জানি, করোনার জন্য ঢাকা হটস্পট, ঢাকার আশপাশের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর হটস্পট। এই হটস্পট থেকে যারা যাচ্ছেন তাদের মাধ্যমে সারাদেশে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়বে। আবার তারা ঢাকায় ফিরবেন তখনো ভাইরাসটি ছড়িয়ে যাবে। তাই আমি মনে করি, বাংলাদেশ করোনা সংক্রমণের একটি দীর্ঘমেয়াদি জটিলতায় পড়তে যাচ্ছে।

এমএইচ শমরিতা হাসপাতালের কনসালটেন্ট নিউট্রিশনিস্ট খানম উম্মেদ নাহার হুমায়ারা মানবকণ্ঠকে বলেন, সরকারের নানা সতর্কতার পরও বাড়ি যাওয়া একটি ভুল সিদ্ধান্ত। এই সময়ে যারা বাড়িতে যাচ্ছেন তারাতো নিশ্চিত করে বলতে পারছে না সে করোনায় আক্রান্ত নয়। অনেকে করোনা পজেটিভ থাকতে পারে। এদের মাধ্যমে তাদের আত্মীয়স্বজন ও গাদাগাদি করে যাওয়ার কারণে নতুন করে অনেকে করোনা আক্রান্ত হতে পারে। এভাবে ভাইরাসের গণসংক্রমণ দেশব্যাপী ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, রাজধানীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে আরো কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে। প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা। ঈদ উপলক্ষে যাতায়াত বাড়লে সর্বনাশের আর কিছু বাকি থাকবে না। শুধু ঢাকা নয়, দেশের অন্যান্য বিভাগীয় ও জেলা শহরেও একইভাবে লকডাউন জারি রাখতে হবে। সুস্থ থাকতে চাইলে এ বছর যেখানে অবস্থান করছেন সেখানেই ঈদ করুন।

খবর সারাবেলা / ২০ মে এপ্রিল ২০২০ / এমএম