করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণের দিকে যাচ্ছে
দেশে করোনা ভাইরাসের তৃতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণের দিকে যাচ্ছে। টানা দুই সপ্তাহ করোনা সংক্রমণ কমেছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, করোনা নিয়ন্ত্রণের কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে আরো দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে। শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে নামলেই নিয়ন্ত্রণ বলা যাবে। আর এক শতাংশের নিচে এলেই করোনামুক্ত হবে দেশ। বর্তমানে করোনা সংক্রমণ নিম্নমুখী দেখে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে অবহেলা করা যাবে না। সবার মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
গত ২৫ থেকে ২৮ জানুয়ারি ওমিক্রনের সর্বোচ্চ চূড়া পেরিয়ে এসে গত ২৯ জানুয়ারি থেকে সংক্রমণ নিম্নমুখী। গতকাল দেশে করোনা ভাইরাসের দৈনিক সংক্রমণের হার আরো কমে আসে, এক দিনে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা নেমে এসেছে ৫ হাজারের ঘরে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ হাজার ৬৭টি নমুনা পরীক্ষা করে ৫ হাজার ২৬৮ জন রোগী শনাক্ত হয়, মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। আগের দিন বৃহস্পতিবার ৭ হাজার ২৬৪ জন রোগী শনাক্ত এবং ৪১ জনের মৃত্যু হয়। সে হিসাবে এক দিনের ব্যবধানে নতুন রোগীর সংখ্যা আর মৃত্যু দুটোই কমেছে বেশ খানিকটা।
করোনা ভাইরাসের ডেলটা ধরনের দাপট পেরিয়ে এসে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২০০-এর ঘরে নেমে এসেছিল গত বছরের শেষ দিকে। এরপর আসে আরেক নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন, নতুন বছরের শুরু থেকে দ্রুত বাড়তে থাকে সংক্রমণ। গত ১৭ জানুয়ারি দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়ায়। এরপর সংক্রমণ টানা বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ছাড়িয়ে যায়। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে সংক্রমণের হার ২৮ জানুয়ারি পৌঁছায় ৩৩ শতাংশের রেকর্ড উচ্চতায়। এরপর সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে, ৪ ফেব্রুয়ারি শনাক্ত রোগীর সংখ্যা নেমে আসে ১০ হাজারের নিচে। সাত দিনের মাথায় তা ৬ হাজারের নিচে। শুক্রবার তা আরো কমে ১৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত কোভিড রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৯৯ হাজার ৮০৩ জনে। আর দেশে করোনা ভাইরাসে মোট মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৭৭১ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বেনজীর আহমেদ বলেন, গত ২৯ জানুয়ারি থেকে দেশে করোনা সংক্রমণ কমার ধারা অব্যাহত আছে। অর্থাৎ দেশে গত দুই সপ্তাহ করোনা নিম্নমুখী। আরো দুই সপ্তাহ অর্থাৎ চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে দেশে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে পারে।শনাক্তের হার ১ শতাংশের নিচে নামলে করোনামুক্ত বলা হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে করোনা সংক্রমণ নিম্নমুখী দেখে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে অবহেলা করা যাবে না। লোক সমাগম কম করতে হবে। টিকার কার্যক্রম সঠিকভাবে চালাতে হবে। নানা জটিলতার কারণে অনেকেই টিকার মেসেজ পাচ্ছে না। টিকাদান কেন্দ্রে গিয়েও টিকা দিতে পারছেন না। সকলের টিকা পাওয়া নিশ্চিত করতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক বলেন, দেশে করোনা সংক্রমণ কমছে। আগামী দুই সপ্তাহ পর্যন্ত নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত থাকার মাধ্যমে শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে নামলেই ধরে নিতে হবে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। সামনে করোনা সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা কম। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও সোসাইটি অব মেডিসিনের সাধারণ অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, দেশে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের দিকে যাচ্ছে। তবে আগামী দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে।
সরকারি হিসাবে গত এক দিনে দেশে করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ১১ হাজার ৩৫৩ জন। তাদের নিয়ে এ পর্যন্ত ১৬ লাখ ৫৫ হাজার ৯৮১ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন। এ হিসাবে দেশে এখন সক্রিয় কোভিড রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ১৫ হাজার ৫১ জন। মহামারির মধ্যে সার্বিক শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ। আর মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫১ শতাংশ। গত এক দিনে শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ৩ হাজার ৩৮৬ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। গত এক দিনে যে ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ১৫ জন পুরুষ, ১২ জন নারী। তাদের মধ্যে ১৪ জন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে পাঁচ জন, রাজশাহীতে এক জন, খুলনায় চার জন এবং দুই জন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা।
খবর সারাবেলা / ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ / এমএম




