মুরগির দামে কিছুটা স্বস্তি, সবজির বাজার চড়া
শীত আসতে না আসতেই রাজধানীর বাজারগুলোতে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম। শীতের সবজি শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলাসহ সবধরনের সবজি বাজারে ভরপুর থাকলেও দাম চড়া। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডিজেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচ বেড়েছে। তাই আগের চেয়ে বেশি দামে সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা দাম কমায় স্বস্তি ফিরেছে মুরগির বাজারে।শুক্রবার রাজধানীর শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, আগারগাঁওসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে বাজার দরের এ চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে কিছুটা কমেছে মুরগির দাম। ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৭০ টাকা কেজি। সেই সঙ্গে কমেছে সোনালি মুরগির দামও। কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৭০ টাকা কেজি। তবে অপরিবর্তীত রয়েছে লেয়ার মুরগির দাম। গত সপ্তাহের মতো প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকায়।ব্যবসায়িদের মতে, শীতে নানা রকম সবজি বাজারে আসায় মানুষ এসময় সবজি বেশি খান। ফলে চাহিদা কমে মুরগির দাম কমে যায়।মুরগি বিক্রেতা মিন্টু শেখ বলেন, শীত আসছে। ফলে নানান প্রকার সবজির আমদানি হচ্ছে বাজারে। তাই মানুষ নতুন নতুন সবজির দিকে ঝুঁকছে। ফলে মুরগির চাহিদা কিছুটা কমছে। কিছুদিন পরে আরও দাম কমতে পারে।
এদিকে বাজারে বেশির ভাগ সবজি গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে প্রতিকেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, লম্বা বেগুন ৬০ টাকা, পাতাকপি ৫০ টাকা, ফুলকপি আকারভেদে প্রতিপিস ৫০ টাকা, করলা প্রতিকেজি ৬০ টাকা, গোল বেগুন ৮০ টাকা, টমেটো ১৪০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতিকেজি ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, লতি ৬০ টাকা, কাকরোল ৮০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, প্রতিপিস লাউ আকারভেদে ৮০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, চাল কুমড়া প্রতিপিস ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর রামপুরা বাজারে সবজি কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী বেলাল হোসেন সবজির দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত বছর এমন সময় ছোট আকারের একটি ফুলকপি ২০-৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু এবার তা কিনতে খরচ করতে হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা। যদিও এই দাম কিছুদিন আগেও ছিল ৬০-৭০ টাকা। একই অবস্থা বাঁধাকপির ক্ষেত্রেও। ২০ টাকা দামের একেকটি বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়।
এছাড়া প্রতিকেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা, আলু প্রতি কেজি ২৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ প্রতিকেজি ৫৫-৫০ টাকা, ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ ৫০ টাকা, রসুন ৮০ থেকে ১৩০ টাকা, দেশি আদা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, চায়না আদা ১৬০ টাকা, হলুদ ১৬০ টাকা থেকে ২২০ টাকা, ইন্ডিয়ান ডাল ৯০ টাকা ও দেশি ডাল প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়।
সবজি বিক্রেতা মাহফুজুর রহমান বলেন, ডিজেলের দাম বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে সবজি আনতে আগে যে ভাড়া লাগতো এখন তার থেকে বেশি ভাড়া লাগছে। তাই সবজির দাম বেড়েছে।এদিকে বাজারে অপরিবর্তিত আছে ডিমের দাম। লাল ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। হাঁস ও সোনালি (কক) মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ভেদে রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা। কাতল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, শিং মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা তেলাপিয়া ও পাঙ্গাস মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা। এক থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি।
খবর সারাবেলা / ১৩ নভেম্বর ২০২১ / এমএম




