দিনের বেলার একটু ঘুম কেন দরকার
দুপুর বা বিকালে নতুন করে প্রাণশক্তি ফিরে পেতে একটু ঘুম খুব দরকার। কাজের ফাঁকে স্বল্প সময়ের জন্য ঘুম একজন মানুষের মুড বা মেজাজকেই শুধু চাঙ্গা করে না, বরং এটি হয়তো আপনাকে আরও বেশি দিন বাঁচতে সাহায্য করবে। অনেকেই রাতে ৮ ঘণ্টা ঘুমান, তাদের কাছে ন্যাপ অপ্রয়োজনীয় মনে হতে পারে। কিন্তু রাতে ঘুমানোর পরেও দিনের অল্প নিদ্রা বা ন্যাপ ভীষণ ইতিবাচক, এটা বিভিন্ন গবেষণাই বলছে।ন্যাপ দুই বা তিন ঘণ্টার ঘুম নয়। বিকালের দিকে একটি ন্যাপের দৈর্ঘ্য হয়ে পারে ১০ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ মিনিট।
ন্যাপ অনেকটা গ্রীষ্মের এক পশলা বৃষ্টির মতো প্রশান্তির। তাই দিনে অল্প ঘুম নতুন উদ্যম, কর্মষ্পৃহা ও উৎসাহ এনে দিবে আপনাকে। তবে একটি বিষয় জেনে রাখা ভালো, ন্যাপ কিন্তু দুই বা তিন ঘণ্টার নাক ডাকা ঘুম নয়। এমনকি এক ঘণ্টাও নয়। বিকালের দিকে একটি ন্যাপের দৈর্ঘ্য হয়ে পারে ১০ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ ২৫ মিনিট।
অফিসে চেয়ারে ১০ মিনিট চোখ বন্ধ করে চুপচাপ বসে থাকতে পারেন যারা সারাটা দিন বাড়িতে থাকেন, তারা চাইলেই ঘুমিয়ে নিতে পারেন। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে এটা সম্ভব নয়। অফিসে নিরিবিলি জায়গা খুঁজে পাওয়া খুব সহজ না। তাই নিজের চেয়ারে ১০ মিনিট চোখ বন্ধ করে চুপচাপ বসে থাকতে পারেন। এটা আপনাকে কল্পনার চেয়েও বেশি সুফল এনে দিবে। সম্ভব হলে ডেস্কে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে রাখুন। অর্থাৎ, যেকোনভাবেই হোক দিনের বেলার এই ঘুম জরুরি।
দুপুরের হালকা ঘুম হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে এবং যারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন তাদের পক্ষে এটি উপকারী এক নজরে কী কী উপকার করেদিনের বেলার অল্প ঘুম স্নায়ুতন্ত্রকে পুনরায় সচল করে কাজে নতুন শক্তি সঞ্চয় করতে সাহায্য করে। দুপুরের হালকা ঘুম হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে এবং যারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন তাদের পক্ষে এটি উপকারী। দিনের বেলা ২০ মিনিটের ঘুম স্বল্প মাত্রার ওষুধ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে যেভাবে কাজ করে সে পরিমাণ রক্তচাপ কমিয়ে দিতে পারে। এটি হরমোনের ভারসাম্য উন্নত করে এবং ডায়াবেটিস, পিসিওডি ও থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে। এটি হজমশক্তি বাড়ায়, অনিদ্রা নিরাময় করে, অসুস্থতা থেকে দ্রুত স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করতে সহায়তা করে, এমনকি এটি চর্বি হ্রাস করতেও সহায়ক।
বিকালের অল্প ঘুম স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে দেয় দুপুর বা বিকালের অল্প ঘুম আরও কী কী উপকার করে মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেয়: ন্যাপ মস্তিষ্কের জন্যও অনেক ভালো। এ সময়টাতে মস্তিষ্ক বিশ্রাম পায় এবং পরবর্তী কাজে মনোনিবেশ করতে সহায়তা করে। এতে কাজের গতি বাড়ে।
স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে: বিকালের অল্প ঘুম স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে দেয়। যেকোন সৃষ্টিশীল-সৃজনশীল কাজের মধ্যে অল্প করে ঘুমিয়ে নিলে সেটি আরও সুন্দর হয়। পরীক্ষার আগ মুহূর্তে অতিরিক্ত পড়ার চাইতে সামান্য একটু ঘুম মস্তিষ্কের স্মরণশক্তির জন্য উপকারী।
ন্যাপ ইমিউন সিস্টেমকে বোস্ট আপ করে
মানসিক চাপ কমায়: নাগরিক ব্যস্ততা মানুষের মানসিক চাপ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে। বিকালের স্বল্প ঘুম মানসিক চাপ কমায়। ন্যাপ ইমিউন সিস্টেমকে বোস্ট আপ করে। ‘ফিল গুড বা সতেজ অনুভব’ মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার পাশাপাশি মানুষকে কাজে মোটিভেটেডও রাখে।
কর্মক্ষেত্রে সফল করে: অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে কর্মক্ষেত্রে মেজাজ হারাতে পারেন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অধৈর্য, বিরক্তিকর ও বৈরী স্বভাব মুক্তি এনে দিতে পারে দুপুর বা বিকালের ন্যাপিং। এর প্রভাবে হয়ে উঠবেন ক্যারিশমাটিক, ধীরে ধীরে পরিণত হবেন কর্পোরেট লিডারে।অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে কর্মক্ষেত্রে মেজাজ হারাতে পারেন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
ভ্রমণে আগে ন্যাপ: টানা ভ্রমণে ক্লান্তি চলে আসে। ভ্রমণ শুরুর আগে কিছুটা সময় ন্যাপ নিলে উপকার পাবেন কিংবা ভ্রমণের মাঝে। এতে নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করে নতুন উদ্যমে ভ্রমণের আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন।
কফি ঘুমের বিকল্প না
একটি বিষয় মনে রাখাটা জরুরি, আমরা রাতে ৮ ঘণ্টা ঘুমাই, মানে স্লিপ ড্রাইভের জন্যই দিনের ১৬ ঘণ্টা জেগে থাকি। দিনের বিভিন্ন সময়ে ঘুম ঘুম ভাব হলে অনেকেই চা বা কফির দিকে হাত বাড়ান।
ক্যাফেইন কিন্তু দুপুর বা বিকালের অল্প ঘুমের বিকল্প নয়
ভুলে গেলে চলবে না, ক্যাফেইন কাজ করে ভিন্ন উপায়ে। এটি মস্তিষ্কের কিছু অংশে যেখানে আপনার স্লিপ ড্রাইভের জন্য দায়ী রাসায়নিকগুলো থাকে সেখানে মস্তিষ্কের কিছু অংশের বন্ধন তৈরি করে। সাময়িক ভাবে মধ্যবেলায় পান করা এক কাপ কফির ক্যাফেইনের উপস্থিতি শরীরে বহাল থাকে ১২ ঘণ্টা পরেও। তবে সারাটি দিন কাজের ফাকে সুস্থ থাকতে একটুখানি ঘুমিয়ে নিলে উপকারটা বেশি হয়।




