ছয় সপ্তাহ পর শনাক্ত দেড় হাজারের নিচে, মৃত্যু ৬০

কয়েক সপ্তাহ ঊর্ধ্বগতি থাকার পর দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যু ও শনাক্ত এখন কমতির দিকে। গত একদিনে করোনাভাইরাসে আরও ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা প্রায় চার সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে কম। গতকাল ৫৭ জনের মৃত্যুর তথ্য দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আগে গত ৫ এপ্রিল সবশেষ ৫২ জনের মৃত্যু হয় ও ৬ এপ্রিল ৬৬ জনের। এরপর এ সংখ্যা বাড়তে বাড়তে ১১২ জনে গিয়ে ঠেকে। দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃত্যু ১১ হাজার ৫১০ জনের।

এদিকে গত কয়েকদিনের ধারাবাহিকতায় দেশে করোনা শনাক্তের সংখ্যা আরও কমে দেড় হাজারের নিচে নেমেছে। বেড়েছে সুস্থতার সংখ্যাও।শনিবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দেয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ হাজার ১১৭টি নমুনা পরীক্ষায় ১ হাজার ৪৫২ জন শনাক্ত হন, যা ৪৬ দিন পর সবচেয়ে কম। এর আগে সবশেষ ১৪ মার্চ ১ হাজার ১৫৯ জন শনাক্ত হন। আর ১৫ মার্চ তা বেড়ে ১ হাজার ৭৭৩ জন হয়, যা ৮৭ দিন পর সর্বেোচ্চ ছিল। নতুন শনাক্তদের নিয়ে মোট শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭ লাখ ৬০ হাজার ৫৮৪ জনে।

২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৯.৬১ শতাংশ। গতকাল ছিল ১০.৩৪ শতাংশ। এখন পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯০ দশমিক শূন্য দুই শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার এক দশমিক ৫১ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন তিন হাজার ২৪৫ জন। আর এখন পর্যন্ত সুস্থ হলেন ছয় লাখ ৮৪ হাজার ৬৭১ জন।দেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। কয়েক মাস সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার ঊর্ধ্বগতিতে থাকার পর অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। চলতি বছরের শুরুতে করোনাভাইরাসের প্রকোপ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মার্চ মাস থেকে তা শুধুই বাড়ছে। গত ১৬ এপ্রিল মৃত্যু একশো ছাড়ায়। সেদিন ও তার পরদিন ১৭ এপ্রিল ১০১ করে মৃত্যু হয় করোনায়। ১৮ এপ্রিল ১০২ জন ও ১৯ এপ্রিল ১১২ জন মারা যান, যা একদিনে সর্বোচ্চ।

বিশেষজ্ঞরা এটাকে বাংলাদেশে করোনার ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ বলছেন। করোনা সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করায় প্রথমে ২১ এপ্রিল ও পরে তা বাড়িয়ে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করেছিল সরকার। এরপর সেটি আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে।

খবর সারাবেলা / ১ মে ২০২১ / এমএম