হারিয়ে ফেলা মধুর শৈশব

শৈশব সেতো স্মৃতির পাতায় অম্লান! জীবনের পরিপূর্ণতায় ও ভোলা যায় না হারানো শৈশবকে। সুসজ্জিত রন্ধন প্রণালিকেও হার মানায় শৈশবের কলার পাতায় পান্তা ভাত আর কাঁচামরিচ। পৃথিবীর যত জ্ঞানী-গুণী কিংবা প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তির আত্মজীবনী রয়েছে তাতে ও রয়েছে শৈশবের স্মৃতিচারণ। হোক না তা কষ্টদায়ক কিংবা বিলাসিতার।

শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে না এমন লোক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। শৈশবের মধুর স্মৃতি অনেকের চোখ ভেজায় নিজের অজান্তে। দলবেঁধে লুকোচুরি খেলা, গোল্লাছুট, চি-বুড়ি, কুতকুত, দাড়িয়াবান্ধা, সাতধাপ্পা, চোর পুলিশ খেলার মতো মজার সব খেলার স্মৃতি মনে এলেই এক অজানা সুখে মন ভরে যায়।

যুগ পাল্টায়, পাল্টায় সময়। সময়ের বিবর্তনে মানুষের চিন্তা চেতনায় পরিবর্তন আসে। আধুনিকতার ছেয়ায় জীবন থেকে হারিয়ে যায় অনেক মূল্যবান কিছু। আধুনিকতা স্মৃতির পাতাকে দিনদিন করে ফেলছে অন্তঃসারশূন্য। একটু পেছনে ফিরে তাকালেই দেখা যায় নব্বই দশকের ছেলে-মেয়ের সেই সোনালী শৈশব। এসময় জন্ম নেয়া প্রতিটি শিশুর শৈশবের গল্প মানেই দাদা-দাদির কোলে বসে হাজারও গল্পের ঝুড়ি, বিকালে দলবেঁধে গোল্লাছুট, চি-বুড়ি, সাত ধাপ্পা, লুকোচুরি এমন আরও নানান খেলায় মেতে থাকা। কারও গাছের বড়ই চুরি, কারও জমি থেকে শসা চুরি আবার কারও গাছের আম কুড়াতে কুড়াতে কখন যে দিন পার হতো বলা দায়। দুপুরে পাড়ার বন্ধুরা মিলে লাফালাফি করতে গিয়ে মায়ের বকুনি খেয়ে বাড়ির দিকে ছুটাও যেন মনে এক তৃপ্তির সঞ্চার করে। পড়ার সময় পড়া, খেলার সময় খেলা সেই নিয়মে চলত সারাদিন।

কিন্তু আধুনিকতার ছেয়ায় এ যুগের শিশুদের শৈশব বলতেই সারাদিন পড়া না হয় মোবাইলে সময় কাটানো। শিশুর ছয় বছর হওয়া মানেই সকালে উঠেই ব্যাগ নিয়ে দৌড়াতে হয় স্কুলে। স্কুল থেকে ফিরে শুরু হয় প্রাইভেট। স্কুল ও প্রাইভেটের কাজ করতে করতে দিন শেষ। নানারকম সিলেবাস ও কারিকুলামের বেড়াজালে বিলীন হয়ে যায় তাদের শৈশব।

এখানে একটি কথা না বললেই নয় তা হলো- বিজ্ঞান দিয়েছে বেগ কেড়ে নিয়েছে আবেগ। কেননা শিশুরা এখন সময় কাটায় মোবাইল ফোনে। কার্টুন দেখা ছাড়া ভাতও খেতে পারে না অনেক শিশু। সারাদিন গেমস খেলেই পার করে দেয়।উন্নতির জোয়ারে ভাসতে ভাসতে আমাদের ছেলেমেয়েদের শৈশব ডুবে যাচ্ছে আধুনিকতার করাল গ্রাসে। আমাদের উচিত আগামী দিনের ভবিষ্যৎ আজকের শিশুদের শৈশবকে প্রাকৃতিক ছোঁয়ায় ভরিয়ে দেয়া।

বর্তমান সময়ের বাবা-মায়দের সন্তানের কথা ভাবতে হবে। তাদেরকে খেলার জন্য সময় দিতে হবে। যৌথ পরিবার এখন অনেক কমে গেছে যদি সম্ভব হয় দাদা-দাদি, নানা-নানীর সঙ্গে সন্তানদের সময় কাটাতে দিন। এক্ষেত্রে নতুন করে বিভিন্ন পরিকল্পনা করুন। শিশুকে সুস্থ সুন্দর পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেয়া উচিত।শৈশবের স্মৃতিতে আলোকিত হোক প্রতিটি সম্ভাবনাময় জীবন।

খবর সারাবেলা / ১৬ মার্চ ২০২১ / এমএম