সন্তানের রাতজাগা সমাধান করুন ৭ খাবারে

সন্তানের ‌দুষ্টুমি সবসময় অভিভাবকদের ভালো লাগে না। বিশেষ করে রাতে। অনেক বাচ্চাই রাতে ঘুমাতে দেরি করে। এতে সারাদিনের ক্লান্তির পর তাদের ঘুমটা ভালো হয়না। তখনই হয়তো মনে হয় বাচ্চা ভয়ংকর, কাচ্চা ভয়ংকর। আর ছোটবড় সবার স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঘুম। সন্তানের ঘুম ঠিকঠাক না হলে তার এনার্জি, নিউরোলজিক্যাল ফাংশন, মেজাজ-মর্জি, শারীরিক এবং মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রগুলো ব্যাঘাত ঘটে। এই সমস্যাগুলো থেকে মুক্তি মিলতে পারে বাচ্চার খাদ্যাভাসে পরিবর্তন আনলে। জেনে নিন এমন কয়েকটি খাবারের নাম, যেগুলো সন্তানকে ঘুম পাড়াতে সাহায্য করে।

সন্তানের রাতজাগা সমাধান করুন ৭ খাবারে

দুধ: এক গ্লাস গরম দুধ ভালো ঘুম হওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। দুধে ট্রিপটোফ্যান থাকে, যা সেরোটোনিন এবং মেলাটোনিন উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি অ্যামিনো অ্যাসিড। তাই দুধ ভালো ঘুম হতে সহায়তা করে।

ডিম: ডিম শুধুমাত্র যে উচ্চমানের প্রোটিন ও পুষ্টি সমৃদ্ধ তা কিন্তু নয়। এটি হল ট্রিপটোফ্যানের প্রাকৃতিক উৎস, যা এক ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড। ডিমে উপস্থিত এই অ্যামিনো অ্যাসিড, সেরোটোনিন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি এমন একটি রাসায়নিক যা স্লিপ সাইকেল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

আখরোট: আখরোট মেলাটোনিন হরমোনের খুব ভালো উৎস, যা ঘুম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও, এতে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফাইবার এবং উদ্ভিদভিত্তিক প্রোটিন থাকে, যা ভালো ঘুমের জন্য দুর্দান্ত কাজ করতে পারে। তাই সন্তানের খাদ্যতালিকায় আখরোট অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

কলা: কলা ট্রিপটোফ্যান এবং ম্যাগনেসিয়ামের দুর্দান্ত উৎস, তাই এটি ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে। তথ্য অনুসারে, ম্যাগনেসিয়াম এর ঘাটতির ফলে ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদি আপনার বাচ্চা কলা খেতে না পছন্দ করে, তাহলে তাকে ম্যাগনেসিয়ামের অন্যান্য উৎস, যেমন – বিভিন্ন ধরনের বাদাম, পালং শাক এই জাতীয় খাবার দিতে পারেন।

খেজুর: সন্তান যদি মিষ্টি জাতীয় কিছু খেতে চায়, তাহলে তাকে খেজুর দিতে পারেন। খেজুর ভালো ঘুমের পক্ষে ভালো কাজ করে। খেজুরে ভিটামিন বি৬ এবং পটাশিয়াম থাকে, যা ঘুমের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ছোলা: ছোলা অ্যামিনো অ্যাসিড ট্রিপটোফ্যান সমৃদ্ধ, যা মেলাটোনিন উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও, ছোলাতে ভিটামিন বি৬ থাকে, যা সেরোটোনিন উৎপাদনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। মেলাটোনিন ও সেরোটোনিন উভয়ই ঘুম হতে সহায়তা করে।

কিউই: প্রতিদিন ঘুমানোর আগে ২টি কিউই ফল খেলে ঘুম ভালো হতে পারে। গবেষণা অনুসারে, প্রাপ্তবয়স্ক যারা ঘুমোনোর আগে ২টি কিউই খান, তাদের মধ্যে ৪২ শতাংশের দ্রুত ঘুম আসে। কিন্তু গবেষণাটি হয়েছে প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়ে তাই বাচ্চাকে প্রতিদিন কিউই খাওয়ানোর আগে চিকিৎসকের সাথে কথা বলে নিন।

খবর সারাবেলা / ২৮ জুলাই ২০২১ / এমএম