লকডাউনে সন্তানদের টিভি দেখতে ছাড় দিন
করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে ঘরবন্দি শৈশব। যেখানে স্কুল বন্ধ, সেখানে কোথাও ঘুরতে যাওয়া তো দূরের কথা! আর এ সময়টাতে বাইরে বাচ্চাদের খেলতে পাঠাতেও আছে শঙ্কা। এমআন নাজুক পরিস্থিতিতে সন্তানরা স্বাভাবিকভাবেই টিভি বা মোবাইলের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সময় কাটানোর জন্য ছোট্ট ছেলেমেয়েরা তাদের পছন্দের কার্টুন দেখা বা গেম খেলার বায়নাটা এখন তুলনামূলক বেশি করছে। তবে বাচ্চাদের খুব বেশি সময় টিভি বা মোবাইল দেখে কাটানো যে উচিত নয়, সে বিষয়ে অসংখ্যবার সাবধান করেছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু অতিমারির বন্দী জীবনে ছোট্ট ছেলেমেয়েদের স্ক্রিন টাইমে খানিকটা ছাড় না দিয়েও উপায় নেই। তাই জেনে রাখা ভালো কখন কোন সময়টাতে আপনার আদরের সন্তানটিকে একটু অতিরিক্ত সময় টিভি বা মোবাইল দেখতে দেবেন।
১.লকডাউনের মধ্যেও যদি পড়াশোনাটা ঠিকঠাক করে। স্কুলের অনলাইন ক্লাস, এ্যাসাইনমেন্টগুলো সঠিক ভাবে করে, পরীক্ষায় ভালো ফল করে, তাহলে পুরষ্কার হিসেবে আপনার আদরের ছোট্ট সোনামণিকে একটু অতিরিক্তি টিভি বা মোবাইল দেখার ছাড় দিতেই পারেন। এতে করে তার মধ্যে পড়াশোনার ঝোঁকটা আরো বাড়বে।
২.কোনো পরিবারে বাবা-মা কিংবা অন্য কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে সন্তানকে যথাযথভাবে সামলানো একটু কঠিন হয়ে পরে। অসুস্থতার সে সময়টাতে বাচ্চাদের টিভি বা মোবাইল দেখায় অতিরিক্ত ছাড়পত্র দিতে পারেন। যাতে আপনি খানিকটা বিশ্রাম নিতে পারেন কিংবা যিনি অসুস্থ তাকে সময় দিতে পারেন।
৩.সব বাচ্চারই কমবেশি চিপস, চকোলেট, আইসক্রীমের প্রতি আগ্রহাটা বেশি। পুষ্টিকর খাবার খেতে তাদের রাজ্যের অনীহা। তাই স্বাস্থ্যকর খাবার দিয়ে বলুন, যদি দ্রুত খাওয়া শেষ করতে পারে তাহলে কিছুটা সময় সে তার পছন্দের কার্টুন দেখতে বা গেমস খেলতে পাবে। আর আপনার সন্তান যদি খাওয়া ঠিকঠাক শেষ করে তাহলে আপনিও কথা রাখুন।
৪.অতিমারির মন্দ সময়ে আপনার সন্তান যদি কোনো প্রশংসনীয় কাজ করে বা আপনাকে ঘরের কাজে সাহায্য করে, তাহলে তাকে অতিরিক্ত ২০মিনিটের স্ক্রিন টাইম উপহার দিতে পারেন। এর ফলে সে ভবিষ্যতেও আরো ভালো কাজ করায় উৎসাহ পাবে।
৫.বাচ্চারা অসুস্থ হলে খুবই ঘ্যানঘ্যানে হয়ে যায়, কান্নাকাটি করে। এটা খাব না, ওটা খাব হাজার রকম বায়না ধরে। সেই সময় তাদের শান্ত রাখতে টিভি বা মোবাইল দেখতে দিতে পারেন।
খবর সারাবেলা / ০৬ জুন ২০২১ / এমএম




