রমজানে ক্লাস: মাধ্যমিকে কমিয়ে আনা হতে পারে, শিগগিরই সিদ্ধান্ত

করোনাকালীর সময়ের ক্ষতি পুশিয়ে নিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রমজানেও চলছে ক্লাস। রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েচিল আগেই। একজন আইনজীবী রোজার সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিটও করেছেন।

শিখন ঘাটতি মোকাবিলায় রমজান মাসে ক্লাসের সিদ্ধান্ত- শিক্ষা প্রশাসনের এই কথার বিপরীতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকরা বলছেন, চৈত্রের গরমে রোজা রেখে ক্লাস নেওয়া অমানবিক। এতে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতির হার কমে আসতে পারে।সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রমজানে ২০ দিন ক্লাস নেওয়ার পর ২২ এপ্রিল ছুটি হবে প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর মাধ্যমিক থেকে উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস চলবে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত।

জানা গেছে,২২ এপ্রিল থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি দেওয়ার চিন্তা করছে সরকার। গত শুক্রবার বাংলা একাডেমিতে বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনীর সপ্তম বার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘সবাই চাইছে রমজানে গরম, ক্লাস বন্ধ রেখে দেন। আসলে তো এখন ক্লাস করা খুবই দরকার। দুটো বছর শ্রেণিকক্ষে ক্লাস হয়নি। আর সেজন্য এখন শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করতে না পারলে তাদের জন্য সিলেবাস শেষ করা কষ্টকর হয়ে যাবে। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে মিলিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ক্লাসও ২২ এপ্রিল থেকে বন্ধ করার কথা ভাবা হচ্ছে।

সূত্রে জানা গেছে, দু’একদিনের মধ্যে মাউশি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ছুটির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে মাউশি সূত্র।মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় রমজানে খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামনে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষাও আছে।’তবে এই ছুটি কিছুটা এগিয়ে আনার চিন্তা করা হচ্ছে বলে জানান অধ্যাপক নেহাল। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ও একমত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’

খবর সারাবেলা / ০৩ এপ্রিল ২০২২ / এমএম