বাচ্চা কেন খেতে চায় না

যে বাড়িতে বাচ্চা আছে, তাদের খাওয়াদাওয়া নিয়ে মায়েদের যেন শান্তি নেই। এটা খাবে না তো ওটা খাবে, বায়নার আর বায়না। কোনো কোনো বাচ্চা তো আবার খাবারের নাম শুনলেই কান্না শুরু করে দেয়।একদমই খিদে না থাকা কিন্তু আপনার বাচ্চার পক্ষে ভীষণ ক্ষতিকর। প্রয়োজনীয় পুষ্টি, ভিটামিন, মিনারেলস এবং অন্যান্য নিউট্রিশন যদি শরীরে না যায় তাহলে শিশুর দৈহিক বিকাশ যেমন হবে না তেমনি বুদ্ধিতেও পিছিয়ে পড়বে।

একদমই খিদে না থাকা কিন্তু আপনার বাচ্চার পক্ষে ভীষণ ক্ষতিকর
অনেক বাচ্চা আছে যারা একেবারেই খেতে চায় না, আবার কিছু কিছু বাচ্চা হঠাৎ করেই খাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। আপনার শিশুটির দিকে কিন্তু আপনাকেই বেশি লক্ষ্য রাখতে হবে। নানান কারণে খিদের ইচ্ছে চলে যেতে পারে, সেটি বুঝতে হবে। তবে ভয় পাওয়ার কারণ নেই, এটি থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব নয়। কিছু নিয়ম মেনে চললেই বাচ্চার বেড়ে ওঠার পথে আর যাই হোক, খাবার অন্তত বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে না।

সকাল বেলা ঘুম থেকে ওঠেই সবার আগে বাচ্চাকে পানি পান করানোর অভ্যাস করুন
সকাল বেলা ঘুম থেকে ওঠেই সবার আগে বাচ্চাকে পানি পান করানোর অভ্যাস করুন। ঘুম থেকে ওঠর পরেই গ্লাস ভর্তি করে দুধ খাওয়াতে যাবেন না। এছাড়া দুপুর ও রাতে খাবার খাওয়ার অন্তত ঘণ্টাখানেক আগে পানি পান করান। এতে খিদে বাড়বে।খাবার খাওয়ার সময় বাচ্চার সামনে কঠিন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করবেন না। এমন কিছু বলবেন না যাতে ওদের মানসিক স্বাস্থ্য ভেঙে পড়তে থাকে। ধমক দেওয়া, রাগ নিয়ে তাকানো-এগুলো করবেন না।

শিশুকে এক খাবার প্রতিদিন দেবেন না। খাবারে ভিন্নতা রাখুন
নির্দিষ্ট একটি সময়েই বাচ্চাকে খেতে দিন। এতে সময়ের গুরুত্ব এবং শরীরের পুষ্টি সব ঠিক থাকে। দেখা যায়, ওই নির্দিষ্ট সময়েই ওর নিয়মিত খিদে পাচ্ছে।যেসব বাচ্চারা বসে একেবারেই খাবার খেতে চায় না, তাদের এক থেকে দুই ঘণ্টা পরপর হালকা খাবার দিতে হবে। এবং ধীরে ধীরে নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।

নির্দিষ্ট একটি সময়েই বাচ্চাকে খেতে দিন। এতে সময়ের গুরুত্ব এবং শরীরের পুষ্টি সব ঠিক থাকে
শিশুকে এক খাবার প্রতিদিন দেবেন না। খাবারে ভিন্নতা রাখুন। খাবার পরিবেশনেও ভিন্নতা আনলে অনেক সময় শিশুরা খেতে আগ্রহী হয়। এক্ষেত্রে রঙিন পাত্রে খাবার পরিবেশন করতে পারেন।
অনেক সময় শিশু একা একা খেতে চায় না। কিন্তু যদি সপরিবারে বসে একসঙ্গে খায়, তাহলে খেতে উৎসাহ পায়। এমনটা হলে দুপুরের খাবার বা রাতের খাবার সবাই একসঙ্গে করার অভ্যাস করে নিন।

অনেক সময় শিশু সপরিবারে বসে একসঙ্গে খায়, তাহলে খেতে উৎসাহ পায়
মনে রাখবেন কখনো জোর করে ভয়-ভীতি দেখিয়ে শিশুকে খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন না। তাহলে তা শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। যদি দেখা যায় যে বাচ্চা তার বয়সের তুলনায় ঠিকঠাক বাড়ছে না, ওজন তুলনামূলক কম কিংবা ওজন বয়সের তুলনায় অনেক বেশি, তাহলে দেরি না করে কোনো শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

খবর সারাবেলা / ২৩ নভেম্বর  ২০২১ / এমএম