নভেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা
প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে স্থগিত হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর বোর্ড চেয়ারম্যানদের যে বৈঠক হয়, তাতে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা শুরুর ব্যাপারে মতামত দেয়া হয়।
তবে পরীক্ষার খসড়া সময়সূচি (রুটিন) এখনো তৈরি করা হয়নি। মন্ত্রণালয় থেকে তারিখ ঘোষণার পরই পরীক্ষার সময়সূচি তৈরি করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে মিলেছে এসব তথ্য।বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণ দেখা দেয়ার পর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করে সরকার। গত এপিল মাস থেকে এই পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল।
সূত্রটি জানায়, পরীক্ষার ধরন নিয়েও চিন্তা করছে সরকার। পূর্ণ নম্বর কমিয়ে সব বিষয়েই পরীক্ষা অথবা এমসিকিউ কিংবা সৃজনশীল অংশের যেকোনো একটির পরীক্ষা নেয়া যায় কিনা- এমন সব বিকল্প নিয়েও কাজ করছে সরকার। একদিনে কেবল একটি বিষয়ের পরীক্ষা নেয়া হতে পারে। করোনার বিষয়টি মাথায় রেখে এবারের পরীক্ষা আয়োজনে আনা হচ্ছে নতুনত্ব। কাল মঙ্গলবার এ ব্যাপারে বোর্ডগুলোকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে বোর্ডগুলো সার্বিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে। করোনার বিষয়টি মাথায় রেখে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার পরীক্ষা আয়োজনে নতুনত্ব আনতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত পেলেই আমরা পরীক্ষা নেয়ার মূল কাজ শুরু করব।
মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আয়োজনে দুটি বিষয়ে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। প্রতি বিষয়ে ৫০ শতাংশ নম্বর কমানোর প্রস্তাব আছে। সেক্ষেত্রে যেসব বিষয়ে ব্যবহারিক নেই সেগুলোতে বহুনির্বাচনী ও সৃজনশীল উভয় অংশের পূর্ণমান থেকে ৫০ শতাংশ করে নম্বর কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। যেগুলোতে ব্যবহারিক আছে সেগুলোতে ব্যবহারিক নম্বর ঠিক রেখে অবশিষ্ট অংশের (এমসিকিউ ও সৃজনশীল) নম্বর সমন্বয় করে পূর্ণ নম্বর ৫০ শতাংশ কমানো হবে।
অপর প্রস্তাবে কেবল এমসিকিউ কিংবা সৃজনশীল অংশের যেকোনো একটির পরীক্ষা নেয়ার বিষয় আছে। এ ক্ষেত্রেও ব্যবহারিকের নম্বর ঠিক রেখে বাকি অংশের ওপর নম্বর সমন্বয় করা হবে। করোনা পরিস্থিতির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নিজ নিজ কলেজকে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি দেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
তবে মন্ত্রণালয় যে প্রস্তাব গ্রহণ করবে সেটি বোর্ডগুলো বাস্তবায়ন করবে। এক্ষেত্রে পরীক্ষার সময় কমানোর বিষয়টি অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। পরীক্ষার খসড়া রুটিন এখন পর্যন্ত তৈরি করা হয়নি। মন্ত্রণালয় থেকে তারিখ ঘোষণার পর পরীক্ষার সময়সূচি তৈরি করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, রুটিন তৈরির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি মাথায় রেখে নতুনত্ব আনার চিন্তা রয়েছে। সেটি হচ্ছে, দৈনিক একটির বেশি পরীক্ষা না রাখা এবং প্রত্যেক দিনই পরীক্ষা নেয়া। স্বাভাবিক সময়ে মূল বিষয়গুলোর পরীক্ষার পরে বিভাগভিত্তিক সকালে ও বিকেলে দুটি করে পরীক্ষা রাখা হতো।
ফলে সকালে বিজ্ঞানের পরীক্ষা হলে বিকেলে মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষার পরীক্ষা নেয়া হতো। একটি পরীক্ষার পরে কেন্দ্র পরিষ্কারের বিষয়টি সামনে রেখে দৈনিক একটি রাখার চিন্তা করা হচ্ছে। তবে ধর্মীয় ও সাপ্তাহিক ছুটি বাদে অন্যসব দিন পরীক্ষা নেয়া হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানান, পরীক্ষার কেন্দ্র ও সিটপ্ল্যান ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এক একজন করে শিক্ষার্থীদের ‘জেড’ আকারে বসানো হবে। সে হিসেবে প্রথম একপাশে একজন বসালে অন্য জনকে দ্বিতীয় অপর পাশে বসানো হবে। তৃতীয় বসানো হবে দ্বিতীয় বেে র বিপরীত পাশে। এই প্রক্রিয়ায় আসন ব্যবস্থা করতে গিয়ে কেন্দ্র সংখ্যা ১০ থেকে ২০ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি কেন্দ্রে গড়ে ৬৫০ জন করে পরীক্ষার্থী আছে।
অন্য একজন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানান, করোনা মহামারী শুরুর আগে সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্নপত্র ছাপানো শেষ করে মাঠপর্যায়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। শুধু মার্চের শেষ সপ্তাহে মাদ্রাসা বোর্ডের প্রশ্নপত্র ছাপানো শেষ হয়। লকডাউন ও করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রশ্নপত্র এতদিন প্রেসে সংরক্ষিত ছিল।
এ সপ্তাহে প্রশ্নপত্র পাঠানো শেষ হয়েছে। প্রশ্নমালা- যা ইতোমধ্যে ছাপানো হয়ে গেছে, তা দিয়েই পরীক্ষা নেয়া হবে। যদি সরকার আংশিক নম্বরে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে সকালে কেন্দ্র সচিবদের নির্দেশনা জানিয়ে দেয়া হবে। সে অনুযায়ী তারা শিক্ষার্থীদের অবহিত করবেন।
অন্যদিকে এর আগে গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে পরীক্ষার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানান, পরীক্ষা ছাড়া মূল্যায়ন করা হলে এই ব্যাচ ভবিষ্যতে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তাই পরীক্ষা হবে। কিন্তু বিষয় কমানো হবে, না পূর্ণ নম্বর কমবে- সে রকম একাধিক বিকল্পই আছে। পরীক্ষার বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে তথ্য প্রকাশ করা হবে।
খবর সারাবেলা / ০৫ অক্টোবর ২০২০ / এমএম




