চল্লিশেও চনমনে

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের লাবণ্য কমতে থাকে। এ পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী, তাকে ঠেকানোর সাধ্য কারো নেই। বরং পরিবর্তনের কথা মনে নিয়ে নিজের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে যাতে দিন পেরোলেও তারুণ্যের উচ্ছ্বাস থেকে যায় ত্বক ও চুলে।

জীবন চল্লিশের কোঠায়, মানে জীবনের সব চুকেবুকে যাওয়া নয় বরং নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছেন, যেখানে চাইলেই আপনি থাকতে পারেন সতেজ ও সুন্দর। শারীরিক সুস্থতার বিবেচনায় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ বছরের সময়টা মানুষের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই সময়টাতে নিজের যত্ন নেওয়া বেশি দরকার। ডায়াবেটিস, প্রেশার, সুগার, জয়েন্ট পেন—এই বয়সেই বেশি কাবু করে দেয়। নারীরা মেনোপজের দিকে এগোতে থাকে। চল্লিশে চনমনে থাকতে গেলে ফিটনেসের কোনো বিকল্প নেই।

চল্লিশে পা দেওয়ার পর হিসেব কষে শরীরচর্চা করতে হবে। খুব বেশিও না, আবার কমও নয়। অনেকে সুগার-প্রেশার ধরা পড়লে অতিরিক্ত শারীরচর্চা শুরু করে দেন। এতে হার্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই ভুল করা যাবে না।শারীরিক সুস্থতার বিচেনায় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ বছরের সময়টা মানুষের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

ছেলেদের শারীরচর্চা
সাধারণত, চল্লিশের পরে ছেলেদের মাসল লুজ হতে শুরু করে। এতে গায়ে হাত পায়ে ব্যথা হয়। এ বয়সে স্ট্রেসের মাত্রাও বেড়ে যায়। অনেক রকম রোগব্যাধি বাসা বাধে শরীরে। কিছু কার্ডিয়ো ওয়ার্কআউট, তার সঙ্গে স্ট্রেংদেনিং এক্সারসাইজ, যেমন হাঁটা, দৌড়নো, জগিং, সাঁতার, অ্যারোবিক্স, পিলাতেস প্রতিদিন ১৫-২০ মিনিট করতে হবে।

স্ট্রেংদেনিং ওয়ার্কআউটে চেস্টের অংশের জন্য পেপ ডেক, ওয়াল পুশআপ। কাঁধের জন্য সিঙ্গল হ্যান্ড শোল্ডার প্রেস, ডাবল হ্যান্ড শোল্ডার প্রেস। হাতের জন্য বাইসেপ-ট্রাইসেপ কার্ল। পায়ের অংশের জন্য স্কোয়াট করা যেতে পারে। এই বয়সে বহু পুরুষই ভুঁড়ি নিয়ে চিন্তায় থাকেন। ক্রাঞ্চ কিন্তু ভুঁড়ি কমাতে অব্যর্থ ব্যায়াম। তার সঙ্গে মিনিট তিনেক প্লাঙ্ক। প্রতিটি এক্সারসাইজ বাড়িতেই করা সম্ভব, হালকা ওজনের ডাম্বেল ব্যবহার করে। সব ব্যায়ামই ১৬ কাউন্ট করে ৩-৪ সেটে করতে হবে।ক্যারিয়ারের কারণে এখন অনেক নারীই মধ্য ত্রিশে মা হোন। ফলে চল্লিশে পৌঁছেই চেহারায় ভারিক্কি ভাব চলে আসে

মেয়েদের শারীরচর্চা
নারীদের চল্লিশ থেকেই জয়েন্ট পেন, আর্থ্রাইটিস জাতীয় সমস্যা বাড়তে থাকে। তা ছাড়া ক্যারিয়ারের কারণে এখন অনেক নারীই মধ্য ত্রিশে মা হোন। ফলে চল্লিশে পৌঁছেই চেহারায় ভারিক্কি ভাব চলে আসে। এটা তো ঠিক যে, মা হওয়ার পরে মেয়েদের শরীরে অনেক বদল আসে হরমোনের করণে। চেহারার ভারী ভাব কাটানোর জন্য স্ট্রেংদেনিং এবং টোনড ওয়ার্কআউটের সঙ্গে কার্ডিয়ো করতে হবে।

পেটের অংশের মেদ কমাতে প্লাঙ্ক এবং ক্রাঞ্চ খুব উপকারী। যারা একদম প্রথম এক্সারসাইজ করছেন তারা ৩০ সেকেন্ড প্লাঙ্ক দিয়ে শুরু করতে পারেন। ধীরে ধীরে এটাকে তিন মিনিটে নিয়ে যাবেন। ক্রাঞ্চ করতে হবে ১৬ কাউন্টে তিন-চার সেটে। চেস্ট এর অংশের জন্য ওয়াল পুশআপ দিতে পারেন। আর পায়ের জন্য স্কোয়াট। এখানেও ১৬ কাউন্টে তিন-চার সেট।

চল্লিশের শেষের দিকে বহু মহিলাই মেনোপজ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। এ কারণে এক ধরনের অবসাদ গ্রাস করে তাদের। ডি-স্ট্রেস ওয়ার্কআউট নারীর শরীর, মন দুটোই সজীব করে তোলে। নারীদের জন্যও কার্ডিয়ো খুব প্রয়োজন। হাঁটা, জগিংয়ের বাইরে অ্যারোবিক্সের ক্লাসে ভর্তি হয়ে যেতে পারেন। এতে শরীর-মন ঝরঝরে হবে। আর স্ট্রেস কমানোর জন্য পিলাতেসও কিন্তু অব্যর্থ।

খবর সারাবেলা / ১০ এপ্রিল ২০২২ / এমএম