ঘরেই বানান সুগন্ধি সাবান

করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে বিশেষ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যার অন্যতম হলো, সাবান কিংবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়া।

রোগজীবাণু থেকে বাঁচতে সাবান বা সাবানজাতীয় জিনিসের ব্যবহারের ইতিহাস বেশ পুরনো। খ্রিস্টপূর্ব ২৮০০ বছর আগে, প্রাচীন ব্যাবিলনে সাবানের প্রথম প্রমাণ মেলে। পরিচ্ছন্নতার জন্য সাবানজাতীয় বস্তু ব্যবহার প্রতিনিয়ত আবশ্যক হয়ে উঠেছে। সুগন্ধি সাবানও সবাই হাতের নাগালে রাখতে চায়।

উৎসব বা যেকোনো অনুষ্ঠানে প্রিয়জনকে উপহার হিসেবে সুগন্ধি সাবান দিয়ে চমকে দিতে পারেন। নিজের আপনজনের উপহারটি নিজেই তৈরি করে ফেলুন। বাড়িতে বসেই এ কাজ হতে পারে। ব্যস্ত সময়ের কিছুটা খরচ করেই আপনি তৈরি করে ফেলতে পারেন ভিন্ন ভিন্ন ফ্লেভারের সাবান। তাও আবার রাসায়নিক ছাড়া। এর জন্য প্রাথমিক কিছু উপাদান লাগবে।

গ্লিসারিন বা তেল জাতীয় উপাদান

লিয়ে নামের ক্ষার জাতীয় উপাদান

সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড

সাবান তৈরির সময় সাবধান থাকবেন। মোটা চোখ ঢাকা চশমা পরবেন। হাতে পরে নেবেন মোটা রাবারের গ্লাভস। জামাকাপড় সুরক্ষিত রাখতে পরবেন অ্যাপ্রন, চাইলে পুরনো কাপড় জড়িয়ে নিতে পারেন। তারপর যে ফ্লেভার পছন্দ সেই ফ্লেভারের সাবান তৈরি করতে পারেন। যেমন-

লেমন সাবান

প্রাথমিক উপকরণগুলো আগে একটি বাটিতে মিশিয়ে নিন। খুবই হালকা আঁচে ১০-১৫ সেকেন্ড অন্তর অন্তর নাড়াতে থাকবেন। কিছুক্ষণ পর আঁচ বন্ধ করে দিয়ে তাতে কয়েক ড্রপ লেমন এসেন্স অয়েল মিশিয়ে দিন। তাতে লেবুর খোসার গুঁড়া মিশিয়ে নিন। ভাল করে মিশে যাওয়ার পরে মিশ্রণটি ছাঁচে ফেলে এক ঘন্টা রেখে দিলেই আপনার লেমন সোপ তৈরি হয়ে যাবে।

চকলেট সাবান

৪ চামচ অলিভ অয়েল, সমান পরিমাণ নারিকেল তেল আর পাম তেল জোগাড় করে রাখুন। এবার এক চামচ কোকো বাটার, ৩৪০ গ্রাম চকলেট এবং দুধ মিশিয়ে তৈরি সাবানের বেস, আর ১২০ গ্রাম লাই বাটিতে দিয়ে হালকা আঁচে গলিয়ে ফেলুন।

দু’মিনিট অন্তর অন্তর নাড়ুন। তারপর অলিভ অয়েল, নারিকেল তেল এবং পাম তেল মিশিয়ে মিনিটপাঁচেক নাড়িয়ে নেওয়ার পরে তাতে পরিমাণ মতো লাই মিশিয়ে আরও একবার ভাল করে নাড়তে হবে। এবার ছাঁচে ঢেলে অন্তত এক দিন রেখে দিন। যখন দেখবেন জমে এসেছে। তখন তা বের করে ইচ্ছেমতো আকারে কেটে নিন।

এভাবেই নানা ফ্লেভারের সুগন্ধি সাবান তৈরি করতে পারেন। চাইলে নিজে ব্যবহার করতে পারেন। আবার ভাল করে প্যাকিং করে প্রিয়জনকে উপহারও দিতে পারেন যে কোনো উৎসবে। করোনাকালে সুস্থ থাকার এই হাতিয়ারের থেকে বেশি ভাল উপহার আর কীই-বা হতে পারে।

খবর সারাবেলা / ০৯ নভেম্বর ২০২০ / এমএম