আমি নারী, আমি সব পারি : রেজওয়ানা খান

‘নারীদের পিছিয়ে থাকার সময় ফুরিয়েছে। সময় এখন সামনে এগিয়ে যাবার। আমি একজন সাধারণ নারী হয়ে সব কাজ সামলাতে পারলে অন্য নারীরাও পারবে। যতই কঠিন কাজ হোক না কেন, ঘরের কাজ সামলানোর পরও নারীরা সব ধরনের কাজ, সব সেক্টরে কাজ করছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার থেকে শুরু করে নারী নেতৃত্ব দেশের সর্বত্র। তাই শুরু এখন এগিয়ে যেতে হবে আমাদের’- জানান বেসিস নির্বাচনে ‘ওয়ান টিম’ প্যানেল থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়া দেশের প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার খাতের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী, সফল উদ্যোক্তা, পরামর্শক এবং বিনিয়োগকারী রেজওয়ানা খান।

রেজওয়ানা খান বলেন, ‘বেসিসে যে কয়জন নারী সদস্য আছে তারা কি তাদের অধিকার নিয়ে কাজ বলতে পারছে? ব্যবসায় তাদের কতটুকু প্রাধান্য দেয়া আছে। আইসিটি সেক্টরে অনেক নারী বর্তমানে কাজ করছে তাদের অবস্থান আইসিটি সেক্টর, বেসিসে কতটুকু প্রভাব ফেলছে এই সব নিয়ে আমি কাজ করতে চাই।’

দীর্ঘ দেড় যুগের বেশি সময় আইসিটি সেক্টরে কাজ করা এই লেডি আইকন বেসিস, বিসিএস, ই-ক্যাব, বিডব্লিউআইটিসহ নানামুখী বাণিজ্যিক সামাজিক সংগঠনের সদস্যেদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের উন্নয়ন অংশগ্রহণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

সফটওয়্যার প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের শীর্ষ বাণিজ্যিক সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) ২০২২-২৩ মেয়াদে কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচনে অংশ নেয়া স্টার কম্পিউটার সিস্টেমস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেজওয়ানা খান বলেন, আমি সাধারণ একজন নারী, যদি আমার মতো সাধারণ একজন নারী ঘরের কাজ সামলানোর পর ব্যবসা-বাণিজ্য সামলাতে পারে তাহলে সমাজের সব নারীরাই ঘরের কাজ সামলিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য-চাকরি করতে পারবে।

তিনি আরো বলেন, আমি আজ প্রায় দীর্ঘ দেড় যুগের বেশি সময় আইসিটি সেক্টরে কাজ করছি। অভিজ্ঞতার হিসেব কষলে খুব একটা কম হবে বলে মনে করি না। তবে আমি সব সময় চেয়েছি এখনও চাই সবার পাশে দাঁড়িয়ে, সবার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতেন দেশের উন্নয়ন করতে, আইসিটি সেক্টরের ভালোর জন্য সব ধরনের কাজ করতে। তাইতো, নির্বাচনে আমার প্রধান লক্ষ্য বেসিস সদস্যদের নিয়ে কাজ করার। সদস্যদের উন্নয়নে সব ধরনের কাজ করব। লোকাল মার্কেটিং সম্প্রাসরন থেকে শুরু করে সরকারী প্রজেক্ট যে সবাই পায় সে লক্ষ্যে কাজ করে যাবো।

উল্লেখ্য, স্টার কম্পিউটার সিস্টেমস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন রেজওয়ানা খান। তথ্যপ্রযুক্তি ও সেবাখাতে এ নারী উদ্যোক্তার পথচলা প্রায় ১৭ বছরের। এন্টারপ্রাইজ, ই-গভর্ন্যান্স, এইচআর, ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্টসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। শুধু তাই নয় বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, বৈদেশিক কোম্পানি, ব্যবসায়িকগোষ্ঠী এবং দাতাসংস্থার সাথেও তার কাজ করার অসাধারণ অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি শিল্পের এন্টারপ্রাইজ-পর্যায়ের প্রকল্প এবং মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে বেশি কাজ করেন।

রেজওয়ানা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্স (সিএসই) ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়া থেকে সফটওয়্যার সিস্টেম উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছেন। দ্য ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ে অ্যাডভান্সড ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামের উচ্চতর ডিগ্রি রয়েছে তার। এছাড়া ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ড থেকে ইমপাওয়ার উইমেন থ্রট এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড বিজনেসে ফেলোশিপ অর্জন করেন। পড়াশোনা শেষে নিজের কোম্পানি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সরকারকে বিভিন্ন বিষয়ে আইসিটি বিষয়ক পেশাদার পরামর্শ প্রদানকারী হিসেবেও কাজ করেছেন। কৌশলগত পরিকল্পনা প্রনয়ন, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা বৃদ্ধি, টিম বিল্ডিং এবং ব্যবস্থাপনা বিষয়েও অবদান রেখে চলেছেন। এছাড়াও তিনি কনসালটেন্সি, কর্পোরেট বিজনেস স্ট্র্যাটেজি বিশ্লেষণ, আর্থিক, পণ্য, বাজার এবং অপারেশনাল কার্যক্রম বিশ্লেষণ করার বিষয়ে বিশেষ পারদর্শী। প্রযুক্তিগত স্টার্টআপগুলোকে সফল করে তোলার ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় রিসোর্সের সংস্থান করা, সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া এবং মনিটরিংসহ নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছেন। যাতে নতুন নতুন উদ্যোক্তারা এ খাতে এগিয়ে আসার উৎসাহ পান।

সময়ের সাথে সাথে আইসিটি সেক্টরে পরামর্শক হিসেবে বেশ পরিচিত রেজওয়ানা খানের ব্যবসায়ের পরিধিও অনেক বেড়েছে। এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনেই বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি এবং সরকারকে সার্পোট দিয়ে চলেছেন দিনের পর দিন। টেকনোলজিগুলোকে কীভাবে আরো উন্নত করা যায়, কৌশলগত পরিকল্পনার পরামর্শ এবং বৃদ্ধি, ব্যবসার দলগঠন, ম্যানেজমেন্ট চেঞ্জ সংক্রান্ত কাজে তার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। মিসেস খানের বিনিয়োগ পোর্টফোলিওর উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের প্রথম এবং বৃহত্তম ওয়েব ও মোবাইল ভিত্তিক অন-ডিমান্ড গৃহস্থালি এবং অফিস রক্ষণাবেক্ষণ সেবা প্ল্যাটফর্ম হ্যান্ডিমামা।

এছাড়া ক্ষুদ্র ও খুচরা বিক্রেতাদের জন্য অত্যাধুনিক মানের প্রিফ্যাব কিয়স্ক এবং ডিজিটাল সিস্টেম তৈরি করে (পয়েন্ট অফ সেলস, ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট, ওয়াইফাই, সার্ভিল্যান্স, ও চার্জিং স্টেশন ইত্যাদি) দেওয়ার প্রতিষ্ঠান ডিজিটং-এর একজন উপদেষ্টা এবং বিনিয়োগকারীও তিনি।

খবর সারাবেলা / ২৪ ডিসেম্বর  ২০২১ / এমএম