পান্থপথে ইন্টারনেটের তার কেটে দিয়েছে ডিপিডিসি, বিড়ম্বনায় ৫ হাজার গ্রাহক
ইন্টারনেট সেবাকে জরুরি সেবা ঘোষণার পরও রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্রের পান্থপথে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ তার কেটে দিয়েছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড (ডিপিডিসি)। ফলে ওই এলাকার ৫ হাজরের বেশি গ্রাহক চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
কোনো নোটিশ ছাড়াই রোববার এই ক্যাবল কাটা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, আইএসপিএবি সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক। তিনি বলেন, পান্থপথের ফিরোজা টাওয়ারের সামনে সকালে ইন্টারনেটের তারগুলো কেটে দেয়া হয়েছে। ওখানে বিডিনিক্স পপ থাকায় সমস্যাটা জটিল আকার ধারণ করেছে। পান্থপথ এলাকার প্রায় সবারই এখন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন। তারা হোম অফিস করতে বিড়ম্বনায় পড়ে সেবাদাতাদেরই এখন গালমন্দ করছে।
বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি’র সংশ্লিষ্ট বিভাগে জানিয়েও কোনো সমাধান আসেনি বলে অভিযোগ করেন ইন্টারনেট সেবাদাতা সংগঠনটির এই নেতা। সংযোগ না পেয়ে অনেক ইন্টারনেট গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, ঘরে বসে অফিসছাড়াও নানা কাজ আমরা ইন্টারনেটে করছি। এখন তো বারোটা বাজিয়ে দিল। মোবাইল ইন্টারনেটে তো আর সব কাজ হয় না।
অপরদিকে ওই এলাকায় ইন্টারনেট সেবাদাতা একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, অনেক কষ্টে তারা ২০ শতাংশ তার সংযোগ করতে পেরেছেন। কিন্তু পুলিশের বাধায় কাজ করতে সমস্যায় পড়ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, চারদিকে করোনা ভাইরাসের আতঙ্কের মাঝেও নিজের জীবনের মায়াকে ত্যাগ করে বাহিরে বেড়িয়ে পরি। আমার “আইএসপি” এর কর্মীরা সকাল থেকে রাত অবধি অক্লান্ত শ্রম দেয়। তার উপর যদি পুলিশ প্রসাশন লাঠি চার্জ কিংবা ভয় প্রদর্শন করে তাহলে খুবই কষ্ট লাগে। যেখানে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী প্রজ্ঞাপন জারি করেন, জরুরি সেবা হিসেবে ইন্টারনেট সার্ভিস চালু থাকবে। এ কেমন দেশে বাস করি যেখানে প্রধানমন্ত্রীর প্রজ্ঞাপনকে অস্বীকার করে রীতিমত হয়রানি করে যাচ্ছে প্রসাশনের লোক। যেখানে তাদের সহযোগিতা করার কথা সেখানে হচ্ছে তার উল্টো। আমি একজন “আইএসপি” কোম্পানির মালিক হয়ে আমার কর্মীদের উপর অহেতুক নির্যাতন? আমিতো ঘরে বসে থাকতে পারি না! আমি সরাসরি ওসি সাহেবের সঙ্গে কথা বললে সে কোনভাবেই আমার কথা কর্নপাত করেনি। যে ছেলেগুলো জীবনের মায়া উপেক্ষা করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গৃহবন্ধি মানুষগুলোকে ইন্টারনেট সেবা দিয়ে যাচ্ছে, তাদের যদি পুলিশ সহযোগিতার পরিবর্তে কান ধরে উঠ বস করানো এবং সেসঙ্গে বেত্রাঘাত করাসহ তাদের কাজ করার উপকরণগুলো জোর করে নিয়ে যায় তার চেয়ে দুঃখজনক আর কি হতে পারে? আমি সব “আইএসপি” কোম্পানির মালিকদের পক্ষ থেকে সব প্রসাশনের ভাইদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি দয়া করে এই বিষয়টি খেয়াল রাখুন।
খবর সারাবেলা / ১২ এপ্রিল ২০২০ / এমএম




