দুশ্চিন্তায় বাড়ছে যেসব রোগ

গোটা বিশ্বেই মরণ ভাইরাস করোনোর প্রকোপ অব্যাহত। তাই দুশ্চিন্তার সঙ্গেই বসবাস করতে হচ্ছে আপাতত। কবে এই সমস্যা মিটবে, জানা নেই। বন্ধ রয়েছে মন ভালো রাখার অনেকগুলো পথ। তার উপর আবার যখন-তখন, যেখানে-সেখানে রোগের ভয়। কেউ একটা হাঁচি দিলে বা গা একটু গরম হলেই মনে হয়, করোনা নয় তো!

করোনা এই আবহে মানসিক চাপ ও মেজাজ খারাপের হাত ধরে অন্য রোগ যে এসে হাজির হবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এই সময়ের অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা জাগিয়ে তুলতে পারে অনেক রোগকে। কী কী রোগ রয়েছে তালিকায়?

উদ্বেগ বাড়লে অনেকেই যা খুশি খেতে শুরু করেন। শুয়ে-বসে থাকেন, নেশা করেন। তার হাত ধরে বাড়ে ওজন এবং ওজনের সঙ্গে সম্পর্কিত অসুখবিসুখের আশঙ্কা এবং রোগ থাকলে তার প্রকোপ। যেমন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, হাই কোলেস্টেরল, ফ্যাটি লিভার, হৃদরোগ, গেঁটে বাত ইত্যাদি।

এমনই জানান ভারতীয় রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সুকুমার মুখোপাধ্যায়ের। তিনি বলছেন, মানসিক চাপের সঙ্গে সরাসরি যোগ আছে ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের। অনিদ্রা, খিটখিটে মেজাজের সম্পর্ক আছে মানসিক চাপের সঙ্গে। সবে মিলে জীবন বিপর্যস্ত হয় আর তাতে কমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। বাড়ে সংক্রমণের আশঙ্কা।

এছাড়া লাগাতার উদ্বেগে অম্বল, বদহজম বাড়ে। চিকিৎসা না করালে এগুলো আরও বাড়ে। পাশাপাশি নারীদের ঋতুস্রাব অনিয়মিত হওয়ার মূলেও হাত আছে এই উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আর দুশ্চিন্তার।

দুশ্চিন্তা করে যখন করোনাকে ঠেকাতে পারবেন না, তখন দুশ্চিন্তাকেই ঠেকানোর চেষ্টা করুন। মনোচিকিৎসক শিলাদিত্য মুখোপাধ্যায়ের মত, ‘চাপকে চাপের মতো থাকতে দিন। নিজে সামান্য কয়েকটা নিয়ম মেনে চলুন, দেখবেন মূল সমস্যা না মিটলেও আপনার উপর তার প্রভাব কম পড়ছে।’

যেসব নিয়ম মানতে হবে

‘নিউ নর্মাল জীবন’কে মেনে নিন। যত তাড়াতাড়ি মানতে পারবেন, তত ভালো থাকবেন।

মন হালকা করার নতুন পথ খুঁজুন। বই পড়া হোক কী গান শোনা। ঘরে বসে সিনেমা দেখা বা হালকা ব্যায়াম করা যেকোনো পথ বেছে নিন। যোগাসন ও মেডিটেশন অভ্যাসেও মন হালকা হয়।

টিভিতে বা মোবাইলে হালকা অনুষ্ঠান দেখুন। হাসির অনুষ্ঠান দেখলে আরও ভালো।

ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ওবেসিটি থাকলে নিয়ম করে ব্যায়াম করুন।

খাওয়াতে রাশ টানুন। ডায়াবিটিস ও মেদ বাহুল্য থাকলে কার্বোহাইড্রেট ও মিষ্টি কম খান। রক্তচাপ বেশি হলে নোনতা খাবার ও ভাজাভুজি বাদ দিন।

ঘন ঘন চা-কফি-সফ্ট ড্রিংকস পান করে ঘুম নষ্ট করবেন না। মন ভালো রাখার অর্ধেক ওষুধ কিন্তু লুকিয়ে আছে ঘুমের মাঝেই।

কোনো সমস্যা হচ্ছে মনে হলেই ডাক্তার দেখান। অনেকেই আজকাল অনলাইন রোগী দেখছেন। চেম্বারে যেতে সমস্যা মনে হলে ফোন করে পরামর্শ নিন। নিজে থেকে ওষুধ খেয়ে বিপদ বাড়াবেন না। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন।

খবর সারাবেলা / ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ / এমএম